সোমবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

রমেন ঘোষ
১১ জানুয়ারি সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্স বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে করোনার টিকা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। সোমবার বিকেল ৪টেয় দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করবেন বলে সূত্রের খবর।
ইতিমধ্যেইই করোনার টিকা নিয়ে দেশজুড়ে ড্রাই রান চালানো হয়েছে। টিকা প্রদানের প্রস্তুতিপর্বও খতিয়ে দেখা হয়েছে। টিকা প্রদানের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শুক্রবার আরও একদফা ড্রাই রান করে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ২ জানুয়ারি প্রথম ড্রাই রান করা হয় দেশের ৭০০ জেলায়।
বছরের দিনেই দুটি টিকায় ছাড়পত্র দেয় সরকারের প্যানেল। কোভ্যাক্সিন তৈরি কাজে যুক্ত অধ্যাপক ডঃ সবিতা বার্মা জানিয়েছেন ১০ মিলিয়ন টিকা প্রস্তুত রয়েছে ভারত বায়োটেকে। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোভ্যাক্সিন কতটা কার্যকরী, তার রিপোর্টকার্ড এখনও প্রকাশ করেনি ভারত বায়োটেক। তবে প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, তাতে কোনও মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং তার যথেষ্ঠ প্রতিষেধক ক্ষমতা রয়েছে। দ্বিতীয় দফার ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, সহনশীল সুরক্ষিত ফলাফল রয়েছে, এবং এরমাধ্যমে শরীরে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডির আয়ু ৬ থেকে প্রায় ১২ মাস। পরবর্তী পর্যায়ে যদি প্রমাণ হয়, যে এই টিকার যথেষ্ঠই সুরক্ষিত, তাহলেই তা চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাবে। ভ্যাকসিনের জরুরিভাবে ব্যবহারের অনুমোদন পেতে ভারতের দুটি সংস্থা আবেদন করে। তাদের মধ্যে একটি হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেক এবং অপরটি এসআইআই। তাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার দিল্লিতে বৈঠকে বসে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিনকে জরুরিভাবে ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কোভ্যাক্সিন টিকা প্রস্তুত করে হায়দরাবাদের সংস্থা ভারত বায়োটেক।
দেশবাসীর মুখে প্রথম হাসি ফুটিয়ে অক্সফোর্ডের তৈরি করা কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে এই টিকা তৈরি করেছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, এবং ভারতে সেটি তৈরি করবে সিরাম ইনস্টিটিউট। ইতিমধ্যেই ৫০ মিলিয়ন ডোজ টিকা প্রস্তুত করে ফেলেছে সিরাম ইনস্টিটিউট। বেশ কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে তাদের ভ্যাকসিনে শুক্রবারই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের তরফে বলা হয়েছে, প্রত্যেক টিকা গ্রহণকারীকে ভ্যাকসিন গ্রহণের আগে থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা লিখিতভাবে জানাতে হবে। প্রত্যেক ১৫ দিনে উৎপাদনকারী সংস্থাকে রিপোর্ট দিতেও নির্দেশ দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। এরপরেই শনিবার দেশজুড়ে করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাইরান করানো হয়। টিকা প্রদানের প্রস্ততি খতিয়ে দেখতে এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে সরকারের তরফে।
Comments are closed.