Bengal Fast
বিশ্ব মাঝে বাংলা খবর

বহিরাগতরা নয়, বাংলা চালাবে বাংলার লোকেরা, ভার্চুয়াল সভা থেকে হুঙ্কার মমতার

শুভাশিস মণ্ডল

২১-এর ভার্চুয়াল সভা থেকে ২১ জয়ের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সাথে ঘোষণা করলেন, ‘এ বছর ধর্মতলায় সভা করতে না পারার জন্য আমরা মর্মাহত। কিন্তু কথা দিচ্ছি, আগামী বছর ২১ জুলাই ধর্মতলায় ঐতিহাসিক সমাবেশ হবে।’ কোভিড আবহে ২০২০-র ধর্মতলার সভা ভার্চুয়াল সভায় বদলে গেলেও বক্তব্যে আরও ঝাঁঝালো, আরও তীক্ষ্ণতা, আরও ক্ষিপ্রতা ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের বাড়ির দফতর থেকে এ দিন দুপুরে শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়ে বেলা ২টো নাগাদ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা শুরু করেন মমতা। তাঁর সরকার মানুষের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ করেছে তার খতিয়ান দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তিনি। তৃণমূল নেত্রী এদিন বলেন, ‘গত লোকসভা ভোটে কয়েকটা আসন জিতে গোটা পৃথিবী জয় করে ফেলেছে বলে মনে করছে। ২০২১-এই ওদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’

ভার্চুয়াল সভা থেকে সরাসরি নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহর নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোপ দেগে বলেন, ‘দুই ভাই হয়েছেন, গোটা দেশটাকেই গুজরাত মডেলে চালাবে। এরা সংবিধানকে আক্রমণ করছে, পুলিশকে আক্রমণ করছে, সাংবাদিকদের আক্রমণ করছে, সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করছে। এরা মনে করে টাকা ছড়িয়ে সব কিছু কিনে নেওয়া যায়। সেই টাকা গরিব মানুষকে দিক না, তাঁদের কাজে লাগে। গুজরাত কি সব রাজ্যকে শাসন করবে? তা হলে আর নির্বাচন কমিশন থাকার দরকার কী। তুলে দিন। একটা দেশ একটাই রাজনৈতিক দল থাকুক।’

বক্তব্যের ঝাঁজ বাড়িয়ে কার্যত হুঙ্কারেরর সুরেই মমতা বলেন, ‘বহিরাগতরা বাংলা চালাবে না। বাংলা চালাবে বাংলার লোকেরা। তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দুর্বল ভাবার কারণ নেই। কিছু লোক রয়েছে যাদের সকাল থেকে জিহ্বা লকলক করে। যাদের না আছে কাজ, না আছে রাজনীতির বোধ, না আছে দর্শন, না আছে বুদ্ধি। কখনও বলছে এনকাউন্টার করে দেব, কখনও বলছে জ্বালিয়ে দেব, কখনও বলছে পুড়িয়ে দেব, কখনও বলছে মেরে পা ভেঙে দেব। আমি তাদের বলছি, তোমাদের জন্মটা কোথায় শুনি! কখনও তো শুনিনি রাজনীতি করেছেন। কখনও তো শুনিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। খালি ধ্বংসের কথা! এতই সহজ!’

- Sponsored -

এরই পাশাপাশি মনে করিয়ে দিলেন এনআরসি-এনআরসি ইস্যুর কথাও। বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘আমরা ভুলে যাইনি এনপিআর-এর লড়াই। আমরা ভুলে যাইনি এনআরসি-র লড়াই। ভাববেন না কোভিড চলছে বলে এনআরসি ভুলে যাব। এখানে সবাই নাগরিক। তুমি কে কাউকে নাগরিকত্ব দেওয়ার? সব উদ্বাস্তুরা আমাদের লোক। মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোনও কাজ নেই? ওরা বলে, বাংলায় নাকি আইনশৃঙ্খলা নেই। বাংলায় আইনশৃঙ্খলা না থাকলে কোথায় আছে? উত্তরপ্রদেশে তো জঙ্গলরাজ চলছে। অসমে এনআরসি-র নামে কী অত্যাচার করল। তৃণমূলই একমাত্র জায়গা যেখানে শাসন করার লোক আছে, শোষণ করার লোক নেই। বহিরাগতরা বাংলা চালাবে না। বাংলা চালাবে বাংলার লোকেরা। তৃণমূল কংগ্রেসকে এত দুর্বল ভাবার কারণ নেই।’

বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়েই তৃণমূল নেত্রী বলেছেন, ‘মাঝে লোকসভা ভোট হয়েছে। কয়েকটা সিট পেয়ে ভাবছে কী না কী করে ফেলেছে। গুন্ডামি, বদমায়েশি করে চলেছে। শুধু মিথ্যা কথা। কখনও হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের লাগিয়ে দেওয়া, কখনও রাজবংশীর সঙ্গে কামতাপুরীদের লাগিয়ে দেওয়া, কখনও আদিবাসীদের সঙ্গে তফসিলিদের লাগিয়ে দেওয়া। কীসের রাজনীতি চলছে?’

তীক্ষ্ণ ভাষণে মমতা বলেন, ‘বিজেপি একটা চোরেদের দল। ভোটের সময় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে। কেন মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্নাটকে টাকা দিয়ে সরকার ভেঙে দেওয়া হবে। দেশটাকে তো পুরো বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে! রেল বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, কোল ইন্ডিয়া টোটাল বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। কোভিডের নাম করে পিএফের টাকা ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে। মাইনে কেটে নেওয়া হচ্ছে। একমাত্র বাংলায় কর্মচারীদের মাইনেতে হাত পড়েনি।’

২১-এর বক্তব্যে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধনকড়কে তাঁবেদার বা সুবেদার বলেও কটাক্ষ করেন বলেন, ‘এত বড় সাহস, দিল্লির এক জন তাঁবেদার বা সুবেদার আমাকে ফোন করে বলছে, উপাচার্যদের শোকজ করবে। আমি বললাম, হাত দিয়ে দেখুন, ছাত্র আন্দোলন কাকে বলে দেখতে পাবেন। বিজেপির রাজত্বে কথায় কথায় বঞ্চনা, অসম্মান, চক্রান্ত।’

ভার্চুয়াল সভা থেকে বিজেপিকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ‘আমি ভয় পাই না। সারা জীবন সিপিএমের হাতে মার খেতে খেতে আমার সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে। আমি বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে জানি। মনে রাখবেন মৃত বাঘের থেকে আহত বাঘ আরও ভয়ঙ্কর।’ এককথায় ২১ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভা থেকে তিনি শহিদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানিয়ে অলআউট আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ দিলেন বিজেপিকেও।

Subscribe to our Whatsapp Group for daily news alerts.


You might also like

- sponsored -

Comments are closed.