কিশোর কুমার– দ্য বেঙ্গলি লিজেন্ড
সুদীপ চট্টোপাধ্যায়
‘অমর শিল্পী তুমি কিশোর কুমার, তোমাকে জানাই প্রণাম’ বিশ্ব বিনোদন জগতে বারবারই আবির্ভূত হয়েছে এমন কিছু প্রতিভা যাঁরা নিজের অবদানে স্মরণীয় হয়ে আছেন বাঙালির মননে, বাঙালির স্মরণে। বাঙালি হিসেবে যাঁদের পেয়ে গর্বিত হই আমরা। এমনই একজন হলেন ‘দ্য লিজেন্ড কিশোর কুমার’।
মধ্যপ্রদেশের এক বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম কিশোর কুমারের। তবে পেশাগত ক্ষেত্রে জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে হিন্দি ছবির জগতে। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন আদ্যোপান্ত এক বাঙালি। জন্মসূত্রে ও কর্মক্ষেত্রে প্রবাসী হলেও চলনে, বলনে ও মননে তিনি বজায় রেখেছিলেন তাঁর বাঙালিয়ানা। পেশাগত কারণে নিজের ভাষার পরিবর্তন ঘটলেও, পাল্টায়নি কিশোর কুমারের বাঙালিয়ানা। দাদার হাত ধরে ফিল্ম জগতে পা রাখলেও নিজ প্রতিভার জোরেই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বলিউডে নিজের আসন পাকা করে নিয়েছিলেন আভাষ কুমার গাঙ্গুলি ওরফে কিশোর কুমার।
বাঁধাধরা প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেড়ে নিয়েছিলেন প্লেব্যাক সিঙ্গিং-এ শ্রেষ্ঠত্বের আসন। বলিউডের পাশাপাশি তাঁর মন পড়ে থাকত আমাদের টলিউডের দিকেও। একের পর এক বাংলা গান গেয়ে বলিউডের মতন টলিউডেও একছত্র রাজত্ব করেন তিনি। শুধু আধুনিক নয়, রবি ঠাকুরের গানেও সমান সাবলীল ছিলেন তিনি। এরজন্য বিশ্ববরেণ্য বাঙালি পরিচালক সত্যজিৎ রায় তাঁর ‘ঘরে বাইরে’ ছবিতে ব্যবহার করেছিলেন কিশোর কুমারের গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত।
প্রবাসী বাঙালি পরিবার, মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া থেকে সাগরপারের মোহময়ী বাণিজ্যনগরীর সিংহাসন দখল। তারপর একসময় হঠাৎ সিংহাসনটা হেলায় ফেলে রেখে উধাও হয়ে যাওয়া অজানা দেশে। সবটার মধ্যে কেমন যেন বাঙালির রোমান্টিজ্ম মাখানো। তিনি যে আপাদমস্তক বাঙালিই ছিলেন। তাই আজও অমর শিল্পীর গান শুনে নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত হয় প্রত্যেক বাঙালি। আজও সেই কিশোর কণ্ঠের থেকে বেরোতে পারিনি আমরা…. বোধহয় বেরতে চাই না বলেই।
ছবি ঋণ : ইন্টারনেট
Comments are closed.