বৃদ্ধা মাকে স্টেশনে ফেলে পালাল চাকুরিজীবী ছেলে, করুণ দৃশ্য অশোকনগরে

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাকে আর জি করে ডাক্তার দেখানোর নাম করে হাসপাতালে নিয়ে যাবে বলে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে ফেলে গেলেন স্টেশনে গুণধর ছেলে। অভিযোগ, দিন কয়েক আগে ঝড়বৃষ্টির রাতে কলকাতার মধুগড়ের বাসিন্দা বৃদ্ধা গীতা সরকারকে তাঁর একমাত্র চাকুরিজীবী ছেলে রাজু সরকার ট্যাক্সিতে করে নিয়ে আসেন অশোকনগর স্টেশনে। তুমি এখানে থাকো আমি আবার তোমাকে নিয়ে যাব। গীতাদেবী ছেলের কথার উপর বিশ্বাস রেখে সেই থেকে অশোকনগর দুই নম্বর প্লাটফর্মে সেটের নীচে যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে দিনরাত কাটাচ্ছেন। যে যা খেতে দেয় তা খেয়েই দিন কাটছে তাঁর।
গীতাদেবী জানিয়েছেন, একসময় স্বামী টেলিফোন অফিসে চাকরি করতেন। স্বামীর মৃত্যুর পরে সেই চাকরি একমাত্র ছেলে রাজু সরকার পায়। তিনতলা বাড়ি কোনও অভাব নেই। বাড়িতে ছেলের বউ রয়েছে। মাঝে মাঝে তাঁকে মারধর করা হত, এমনকী ঝাঁটা দিয়েও তাঁকে মারধর করা হত বলে অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধা মা। আর বাড়ি ফিরতে চান না। বাকি জীবনটা এভাবে চলে গেলেই বেঁচে যান।
যখনই ছেলের কথা মনে পড়ে গীতাদেবীর দুচোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে।খুব অসহায় বোধ করছেন তিনি। কোনও দিন ভাবতে পারেননি শেষ জীবনে এরকম দিন তার আসবে।
শুক্রবার এ খবর জানাজানি হতেই “আস্থা অশোকনগর, নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্টেশনের দুই নম্বর প্লাটফর্মে ছুটে যান বৃদ্ধার কাছে। বৃদ্ধার হাতে কিছু শুকনো খাবার তুলে দেন সংস্থার পক্ষ থেকে। সংস্থার পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হয়েছিল গীতাদেবীকে কোনও বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তিনি কিছুতেই যেতে চাননি। তাই সংস্থার পক্ষ থেকে জানিয়েছেন যতদিন উনি এখানে থাকবেন ততদিন তারা পাশে থাকবেন। পাশাপাশি সংস্থার পক্ষ থেকে প্রশাসনকেও জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
Comments are closed.