বিতর্ক : দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে মন খুলে বলুন ‘শুভ মহালয়া’!

বীরেন ভট্টাচার্য, নয়াদিল্লি
মহালয়া বাঙালির অন্যতম আবেগের জায়গা, এদিন থেকেই শুরু শারদ উৎসব। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে শুরু হয় দেবীপক্ষ। ইদানীং ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া নামক একটি দিগগজ এবং তথাকথিত পণ্ডিতকুলের আবির্ভাব হয়েছে, যারা কোনও পড়াশোনা, অনুসন্ধান বা কোনও কিছুর গভীরে না গিয়েই বিচার করে দিচ্ছেন, কোন দিন শুভ, কোন দিন অশুভ! প্রতি বছর আমার কাছে একাধিক ফোন আসে, বার্তা আসে, একটাই প্রসঙ্গ- মহালয়া দিনটি ‘শুভ’ নাকি ‘অশুভ’? সেই সমস্ত পণ্ডিতকুলকে জানাতেই আমায় এই নিবেদন।
প্রথম কথা, এই দিনটি দেবীপক্ষের সূচনা, অর্থাৎ জ্যোতির্ময়ী জগন্মতার আগমন বার্তা ধ্বনিত হয়। দেবতাকুল তাঁদের যোগনিদ্রা থেকে জেগে ওঠেন। সেই দিনটি পালনের জন্যই চণ্ডীপাঠ। দ্বিতীয়, এদিন পিতা-মাতা, বন্ধু-পরিজন যাঁরা পরলোক গমন করেছেন, শাস্ত্র অনুযায়ী তাঁরা মর্ত্যের কাছাকাছি আসেন, এবং বর্তমানদের থেকে তিল জল আশা করেন ও তাঁদের স্বর্গ লোকে ঠাই হয়। সেই জন্য তর্পণ।
কথিত আছে, বর্তমান যে সব পুরুষ পিতৃপুরুষ বা পরিজনদের জল দান করেন, তাঁরা পরলোক থেকে বর্তমান পুরুষদের আশিস প্রদান করেন। পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। সেই জন্য সব শুভ কাছে নান্দীমুখের মাধ্যমে পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়। ফলে যেদিন এই অমূল্য অক্ষয় আশীর্বাদ মেলে, সেইদিন বা তিথি কোন যুক্তিতে অশুভ, সেটা জানি না। কেউ আমার বিরোধিতা করতে চাইলে, স্মৃতি, পুরাণ, বেদ পড়ে আসুন, কোথায় লেখা আছে ‘মহালয়া অশুভ’। আমায় দেখান, আর যদি না পারেন তাহলে দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে সবাইকে মন খুলে বলুন ‘শুভ মহালয়া’।
মতামত ব্যক্তিগত
Comments are closed.