চূড়ান্ত নাটকীয়তা! রণে ভঙ্গ দিয়ে ফের যুব মোর্চার দায়িত্বে সৌমিত্র খাঁ

নিজস্ব সংবাদদাতা : অষ্টমীর দিন রাজ্য বিজেপির আভ্যন্তরীণ বিবাদ আরও প্রকাশ্যে উপলব্ধ করল রাজ্যবাসী। যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের প্রত্যাবর্তন। সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘বিজেওআইএম ওয়েস্টবেঙ্গল অফিসিয়াল’ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে নিলেন সৌমিত্র খাঁ। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ফিরেই রাজ্য যুব মোর্চা সভাপতি লিখলেন, ‘তোমাদেরকে ছেড়ে থাকা সম্ভব নয়। তাই ফিরে এলাম। তৃণমূলকে হঠানোর জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে রাজি আছি। জয় শ্রীরাম। জয় মা দুর্গা। বিজেপি জিন্দাবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।’
ঘটনার সূত্রপাত সপ্তমীর দুপুরে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, অনিবার্য কারণবশত যুব মোর্চার জেলাস্তরের সব কমিটি ভেঙে দেওয়া হল। পরবর্তী ঘোষণা না করা পর্যন্ত বিজেপির জেলা সভাপতিরাই যুব মোর্চার সব কাজ দেখাশোনা করবেন। দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সংঘাত শুরু এখান থেকেই সৌমিত্র খাঁর। বিজেপির অভ্যন্তরের খবর, সৌমিত্র খাঁ নিজের পছন্দ মতো লোকজন যুব মোর্চার সংগঠনে বসিয়েছেন। যা নিয়ে দিলীপ ঘোষের কাছে একাধিক অভিযোগও এসেছে। তারপর রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যুব মোর্চা সভাপতি সৌমিত্র খাঁর তৈরি করা কমিটি ভেঙে দেন।
তাঁর তৈরি জেলা কমিটি দিলীপ ঘোষ কী কারণে ভেঙে দিয়েছেন তা তিনি জানেন না বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন সৌমিত্র খাঁ। সংঘাত এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছায় যে অষ্টমীর সকালে দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সৌমিত্র খাঁ লেখেন, ‘শুভ মহাষ্টমী। সকলে ভাল থাকবেন। আপনাদের খুবই সহযোগিতা পেয়েছি আমি। আমি চাই বিজেপিকে সরকারে আনতেই হবে। তাই হয়ত আমার অনেক ভুল ছিল যে কারণে দলের ক্ষতি হচ্ছিল। তাই আমি ইস্তফা দেব। সকলে ভাল থাকবেন। যুব মোর্চা জিন্দাবাদ, বিজেপি জিন্দাবাদ, মোদীজি জিন্দাবাদ।’
এরপর রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দিলীপ-সৌমিত্র মনোমালিন্যর বিষয়টি। ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা বাদে ফের দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দিয়ে তৃণমূলকে রাজ্য ছাড়া করার অঙ্গীকার করেন সৌমিত্র। তবে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে আগামীতে বৈঠকে বসলেও সেখানে কেন্দ্রীয় কোনও নেতা থাকতে হবে বলেই জানিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ।
Comments are closed.