তৃতীয় দফা নির্বাচনের আগে জোর টক্করে মোদি-মমতা

নিজস্ব সংবাদদাতা : মঙ্গলবার তৃতীয় দফার নির্বাচন হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাংশে। তিন জেলার যে ৩১টি আসনে ভোট সেই এলাকাগুলিতে কৃষিই মানুষের অন্যতম প্রধান পেশা। সেই প্রেক্ষাপটকে লক্ষ্য করেই তৃতীয় দফার ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে রাজ্যে প্রচারে এসে কৃষকদের মন জয়ের চেষ্টা করলেন নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বকেয়া ১৮ হাজার টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, দুর্গাপুজোর আগে হবে, এখন থেকে কৃষকদের নামের তালিকা শুরু করে দিন, বাংলায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে বলব প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নিন।
শনিবার মোদি-মমতার প্রচার দ্বৈরথে রীতিমতো সরগরম হয়ে ওঠে বঙ্গ রাজনীতি। একদিকে যখন মোদি দাবি করলেন, নন্দীগ্রামে মমতা হেরে গিয়েছেন। অন্যদিকে, সেইসময় বিজেপিকে নিশানা করে আক্রমণ শাণালেন মমতা।
তৃতীয় দফা ভোটের আগে শনিবার ফের একবার বঙ্গ সফরে আসেন নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি প্রচার কর্মসূচি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। প্রায় একই সময়ে তারকেশ্বরের দুই ভিন্ন জায়গায় জনসভা করেন মোদি-মমতা।
প্রচারমঞ্চ থেকে মোদি বলেন, ‘দিদির দল বলছেন উনি নাকি এবার বারাণসী থেকে লড়াই করবেন। এতে প্রমাণ হয় দিদি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। আর দিদি এখন বাংলার বাইরে নিজের জন্য জায়গা খুঁজছেন। পাশাপাশি মোদির কটাক্ষ, আমার বারাণসী, কাশীর লোক আপনাকে বহিরাগত বলবেন না। বাংলার মানুষের মতো বারাণসীর লোক উদার। তবে কাশী, বারাণসীতে আপনি অনেক তিলকধারী মানুষ পাবেন। কথায় কথায় জয় শ্রীরাম শুনতে হবে।’ এরপরেই মোদির প্রতিশ্রুতি, ‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্গাপুজোর আগেই বাংলার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার টাকা’। বাংলায় বিজেপি সরকারের শপথের দিন তিনি অনুষ্ঠানে থাকবেন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলার ভূমিপুত্রই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে জিনিয়েছেন মোদি। ভোটের মুখে সিঙ্গুর নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি সিঙ্গুরের মানুষকে মমতা ধোঁকা দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দিদি ছাপ্পার সুযোগ পাচ্ছেন না বলেই এত রাগ।
অন্যদিকে, তৃতীয় দফার ভোটের আগে এদিন বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কুলপির জনসভা থেকে মমতা অভিযোগ করেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভিনরাজ্যের পুলিশ বাহিনী গ্রামে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।’ নন্দীগ্রামে ভোটের দিনের ঘটনা উল্লেখ করে মমতার দাবি, ‘বয়ালে ঘিরে রেখেছিল বিজেপির গুন্ডারা। তিন ঘণ্টা বসেছিলাম। ভয় পাইনি। ওরা পেট্রোল বোমা নিয়ে ঘিরে রেখেছিল’। বিজেপিকে কটাক্ষ করে নেত্রীর তোপ, ‘বিনা পয়সায় চাল দিচ্ছি, ফোটাবেন কীভাবে? গ্যাসের দাম তো হাজার টাকা।’ এদিন বিজেপিকে ছদ্মবেশী ধার্মিক বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রীর প্রতিশ্রুতি, ‘বিনা পয়সা রেশনের সঙ্গে মিলবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড। বানতলায় ৫ লক্ষ ছেলেমেয়ের চাকরি হবে’।
Comments are closed.